Friday, April 20, 2018

রাতের আঁধারে ছাত্রী তাড়িয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে প্রশাসন: নুরুল হক

রাতের আঁধারে ছাত্রী তাড়িয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে প্রশাসন: নুরুল হক


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে রাতের অন্ধকারে ছাত্রীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষ ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের মঞ্চ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার রক্ষা পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক।
নুরুল হক বলেন, ‘আমরা খবর পেয়েছি, রাত ১১টার পরেও অনেক ছাত্রী হল থেকে বের হয়ে গেছেন। ছাত্রীদের মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। প্রাধ্যক্ষের কক্ষে অনেককে আটকে রাখা হয়েছিল। অভিভাবক ডেকে রাতের অন্ধকারে হল ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।
নুরুল হক আরও বলেন, ‘কোনো অপরাধ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু ছাত্রীদের এভাবে বের করে কর্তৃপক্ষ ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে।
সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন বলেন, ‘এটি হল প্রশাসনের ধৃষ্টতা। আমরা প্রশাসনকে সব সহযোগিতা করছি। এর মধ্যে কোনো আলোচনা ছাড়াই কেন তারা এমন সিদ্ধান্ত নিল, আমরা তার জবাব চাই।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কবি সুফিয়া কামাল হলের বেশ কয়েকজন ছাত্রীকে হল ত্যাগে বাধ্য করা হয়। এর প্রতিবাদে রাত দেড়টার দিকে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এস এম ইয়াসিন আরাফাত একাই প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে হলের ফটকে অবস্থান নেন। পরে রাত দুইটার দিকে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা ইয়াসিনের সঙ্গে যোগ দেন। তাঁরা সেখানে বিক্ষোভ করেন।
অনেকে স্লোগান দেন, ‘ভয় দেখিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না, আমার বোন পথে কেন প্রশাসন জবাব চাই।বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটা পর্যন্ত তাঁরা সেখানে অবস্থান নেন।
শুক্রবার দেশের প্রতিটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে অবস্থান শেষ করেন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। 

বিক্ষোভ চলাকালীন হলের ভেতর থেকে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেত্রী ফটকের কাছে এসে বলেন, হলে কোনো সমস্যা নেই আপনারা চলে যান।
সে সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে ছাত্রলীগের নেত্রীরা কিছু না বলে চলে যান। একই সময়ে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে দেখা যায়।
হল কার্যালয়ের একটি সূত্র বলছে, রাত ৯টা থেকে কমপক্ষে ৫০ জনকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে সবাইকে একসঙ্গে বের করে দেওয়া হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হলের ফ্লোরে ফ্লোরে রাতে হাউস টিউটররা পাহারা বসান। ছাত্রীরা আতঙ্কে আছেন। তাঁরা বলছেন, মূলত যে ২৬ ছাত্রী ছাত্রলীগের নেত্রী ইফফাত জাহান এশার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন প্রথম দফায় তাঁদের বিচার করছে হল প্রশাসন।
হলের প্রাধ্যক্ষ সাবিতা রেজওয়ানা রহমান নিজেই বৃহস্পতিবার রাতে প্রথম আলোর কাছে এই তথ্যের সত্যতা স্বীকার করেছেন। 

হলের সাধারণ ছাত্রীরা কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন। তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে আছেন বলে জানিয়েছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, হলের প্রাধ্যক্ষ ছাত্রীদের ছাত্রত্ব বাতিল, গোয়েন্দা নজরদারি ও মামলার ভয় দেখাচ্ছেন।
 

অভিযোগ প্রসঙ্গে সাবিতা রেজওয়ানা বলেন, ‘আমরা অনেক ছাত্রীকে ডেকেছি। তাঁদের মোবাইল চেক করা হচ্ছে। তাঁরা বিভিন্ন ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে গুজব ছড়াচ্ছে। মুচলেকা দিয়ে তাঁদের স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। 

ঠিক কতজন ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্ক বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, এমন অন্তত চারজন ছাত্রীর পরিচয় জানতে পেরেছে প্রথম আলো।
দিবাগত রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে এক ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। ওই ছাত্রীর বাবা তাঁর মেয়েকে মোটরসাইকেলে বসিয়ে দ্রুত চলে যান। চলে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি।
দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে এক ছাত্রীর বাবা হলের ফটক দিয়ে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁকে ফোন করে হলে এসে মেয়েকে নিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এরপর ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি ধামরাই থেকে হলের ফটকে এসে অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
চলে যাওয়ার সময় এই অভিভাবক সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর মেয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। ভবিষ্যতে যেন এমন আর না হয়, সে জন্য হল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ডেকে সতর্ক করেছে।
সাধারণ ছাত্রীরা বলছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে যে ছাত্রীরা হলের ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাঁদের শায়েস্তা করছে হল প্রশাসন।

সুত্র- প্রথম আলো
মতিউর রহমান মাদানী চক্রের আসল রহস্য, পেছনে কারা !

মতিউর রহমান মাদানী চক্রের আসল রহস্য, পেছনে কারা !


অনলাইন ডেস্ক: তিনি যখন অনলাইনে এলেন, সাঈদী নিয়ে কথা বললেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে অগ্নি উদ্গীরণ করলেন, বাংলাদেশের আপামোর উলামায়ে কিরাম নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের হাড়ি বাজালেন, তখন আমি একজন গুণমুগ্ধ শ্রোতা মাত্র। দু’ বছরের মধ্যে দেখলাম আমার সতীর্থরা সবাই শিবির ও জামায়াতের ভীষণ ও তীর্যক সমালোচক হলেন, এবং তথা কথিত এই দুষ্ট চক্রের একনিষ্ঠ মুক্বাল্লিদ হয়ে গেলেন। যারা ক’দিন আগে জামায়াতের পক্ষ হয়ে তাগুতের বিরুদ্ধে জান দিতে প্রস্তুত ছিলেন, তারাই হয়ে গেলো এখন এই মাদানী সাহেবের একটু সমালোচনা হলেই সমালোচনাকারীকে অনলাইনে মুন্ড কাটা সীমার।

আমি এই মাদানীদের চিনি। এদের মূল গুলোকে দেখেছি কাছে থেকে। ফলে আমার খুব কষ্ট লেগেছে যখন এদের দিয়ে বাংলাদেশের দ্বীনী আন্দোলন ধ্বংশ করে, তার স্তুপের পাশে চাড়া দেয়া আওয়ামীলীগ তথা সেক্যুলারদের শুকনো গাছে সার সহ পানি এই মাদানী ঢেলে চলছেন।

১৯৮৮ এর দিকে হঠাৎ শুনলাম মাওলানা আব্দুল মতীন আব্দুর রহমান আস সালাফী বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন। তিনি ছিলেন পশ্চিম বংগের মানুষ এবং এই শায়খ মতিউর রহমান মাদানীর পরিবারের মুরুব্বি। তিনি মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করে সাউদী সরকারের দায়ী ইলাল্লাহর চাকুরি নিয়ে বাংলাদেশে আসেন, এবং দেশের নামকরা মাদ্রাসা তা’মীরুল মিল্লাতে পড়াতেন বিনা বেতনে। খুব ভালো আলিম ছিলেন তাতে কেও সন্দেহ করবেনা, তবে তাকে পাঠানো হয়েছিলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মারাত্মক ষড়যন্ত্রের বীজ বপন করতে। সে বীজটা ছিলো ভারতের র’ এর কিছু কাজের ধর্মীয় সাপোর্ট তৈরি করা। তিনি পাগল ছিলেন না, কোথায় কিভাবে কাজ করতে হবে তা নিখুঁত ভাবে করে যেতে থাকলেন। তিনি তিনটি কাজ অত্যন্ত সফল ভাবে দেখাতে সক্ষম হনঃ

১। বাংলাদেশ আহলে হাদীসকে কার্যত দ্বিখন্ডিত করে শুব্বান বা যুব সংঘের ধারাকে বেগবান করে একদিকে ডঃ আসাদুল্লাহিল গালিবের নেতৃত্বে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক শুব্বান গ্রুপ তৈরী করেন, অন্য দিকে তার বন্ধু ও সাগরেদ শায়খ আব্দুর রহমান কে সামনে নিয়ে তৈরী করেন সন্ত্রাস নির্ভর একটা আন্দোলনী গ্রুপ, যারা রাস্ট্র ক্ষমতা দখলের চেষ্টায় জামায়াতে ইসলামির বিকল্প শক্তি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

২। যেহেতু সাউদী সরকারের মৌলিক ঝামেলা ছিলো এই সব ইসলামি আন্দোলনের সাথে। না পারতেছিলো তাদের অর্থায়ন করে বাগে আনতে, আর না পারতেছিলো তাদের ইগনোর করে ইরানী ও সুফী চেতনার বিপরীতে তাদের হেল্প পায়ে ঠেলতে। কাজেই আব্দুল মতিন সালাফীরা যখন এই মোর্চা শক্তিশালী করে তোলে, তারা সাঊদীদের কাছে প্রমান করতে সক্ষম হয় যে, তারাই হতে পারে জামায়াতের বিকল্প। এ করতে যেয়ে ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে তারা সাউদী আরবের জামায়াতের অর্থায়ন কারীদের কাছে চলে যায়। সাঈদী সাহেবের ভিডীও দিখিয়ে তাদের বুঝাতে সক্ষম হয়, এই সব জামায়াতী আলিমরা বেদআতী। এবং ১৯৯১ সালেই সাঈদী সাহেবের যে ক্যাসেট সাউদী সরকার বাংলাদেশী হাজিদের নিকট বিলি করতে সিদ্ধান্ত নেয়, তা এদেরই প্রচারণায় বন্ধ হয়। ঐ একই বছর তারা গোলাম আযমের ক্যসেট ও সংবাদ মাধ্যমে দেয়া তার এক বিবৃতি সাউদী নীতি নির্ধারণী ও ডোনারদের হাতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, যাতে গোলাম আযম সুস্পষ্ট বলেছিলেনঃ “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে হানাফী ফিক্বহ অনুযায়ী দেশ চালাবে”। এতে তারা জামায়াত যে খাঁটি ইসলামি দল নয় বরং একটা "মুতাআসসিব" হানাফী দল তা প্রমান করতে সক্ষম হয়।

৩। যে মাওলানা ইউসুফ ও তার অফিস দারুল আরাবিয়্যাহ ছিলো আরব ডোনার ও বুদ্ধিজীবিদের আস্থার স্থল। তা নড়বড়ে করে দিয়ে আব্দুল মতিন সালাফীরা হয়ে ওঠেন অনেক আস্থা ভাজন।

শায়খ আব্দুল মতিন সালাফীর এই উত্থান ডঃ আব্দুল বারী গ্রুপ ভালো ভাবে নেয়নি।

কারণ ডঃ আব্দুল বারীর প্রভাব থেকে আহলে হাদীসকে আব্দুল মতিন সাহেব যখন আলাদা করে মিশরের আলনূরের আদলে একটা আন্দোলন সফল ভাবে সম্পন্ন করে ফেলেছেন তখন আব্দুল বারী সাহেব এইটার উদ্দেশ্য বিধেয় নিয়ে জানা বুঝার চেষ্টা করেন। এবং প্রেসিডেন্ট এরশাদের সরকারী সাহায্য নেন। তখন ডঃ বারী সাহেব ছিলেন সম্ভবত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। সরকার এই ব্যপারের খোঁজ নিতে যেয়ে কেঁচো খুড়তে "কাল শাপ" দেখতে পায়। আব্দুল মতিন সালাফীকে র’ এর বংগভূমি আন্দোলনের এজেন্ট হিসেবে পেয়ে যায়, এবং কয়েক ঘন্টার নোটিসে বাংলাদেশ থেকে তাকে বের করে দেয় সরকার। তার বাসার জিনিষ পত্র গুলোরও কোন ব্যবস্থাও তিনি করে যেতে পারেননি।

তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে ছিলেন তবে তার গড়া আন্দোলন দু’টোই হয়ে যায় মিশরের আলনূর সালাফীর মত সুন্দর এক বিকল্প আন্দোলন, যারা জামায়াতের শেকড় উপড়ানোর পেছনে তৎপর হয় মারাত্মক ভাবে। একদিকে ডঃ আসাদুল্লাহিল গালিবের নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন অন্য দিকে শায়খ আব্দুর রহমানের জিহাদী আন্দোলন যখন বিপুল বেগে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন কাছ থেকে আমরা দেখতে পাই দুটো ভয়াবহ অবস্থাঃ

১। ব্যাপক সংখ্যক ছাত্ররা তাদের দলে যোগ দেয়, এমন কি দূর্বলমনা ছাত্র শিবিরের অনেক কর্মীদের ও তাদের দলে যুক্ত করে। চিটাগাং ও উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু স্থানে তারা শায়খ আব্দুর রহমান ও বেশ কিছু আফগান ফেরত যোদ্ধা এবং কিছু অজ্ঞাত যোদ্ধাদের মাধ্যেমে সরাসরি অস্ত্র প্রশিক্ষন দিতে থাকে। তাদের কথা ছিলো গণতন্ত্রের মাধ্যমে ইসলাম কায়েম সম্ভব নয়, বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে। ২০০৫ সালের ১৭ই আগস্টে যে বোমা হামলা সরাসরি প্রত্যক্ষ করি তা এই গ্রুপের, এবং দুঃখের সাথে আমরা লক্ষ্য করি তারা যা বোমা গুলো ব্যবহার করে তা ছিলো ভারতের তৈরি করা।

২। এদের একটা বড় গ্রুপ মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে পাঠান আব্দুল মতিন আসসালাফীরা। এই সালাফী সাহেবের বোনের জামাই হলেন তথা কথিত শায়খ মতিউর রহমান মাদানী, এদের দলেই হলো শায়খ আকরামুজ্জামান ও তার আরো তিন ভাই, শায়খ আমানুল্লাহ, শায়খ শাহীদুল্লাহ, শায়খ এনামুল হক ইত্যাদিগণ, যারা মদীনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী নিয়ে এক যোগে কাজ করতেন। এমনকি ডঃ আব্দুল বারী সাহেবের আস্থা ভাজন ও জামায়াতের এক কালীন রোকন ডঃ মুসলিহুদ্দীনের মত শায়খগণ ও এই গ্রুপে যোগ দেন। এই গ্রুপ কেই সামনে নিয়ে আসে সালাফীদের নব্য গ্রুপ মাদখালীরা। যারা দুনিয়ার সকল ইসলামি দল ও গ্রুপ কে ইসলামের শত্রু ও ইসলামের খাওয়ারিজ বলে আখ্যা দেয়। এরাই হয়ে ওঠেন সাউদীর সবচেয়ে বেশি আস্থা ভাজন ব্যক্তিত্ব এবং এদেরকেই নানা মুখি চাকরি দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয় কাওকে, আর অধিকাংশকে আরব বিশ্বের যেখানে যেখানে বাংলাদেশী আছে সেখানে সেখানে দায়ী ইলাল্লাহ বানায়ে মগয ধোলায়ে সহায়তা করে।

এরা শুধু সাউদী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে তা নয়, সাউদীদের বড় বড় ডোনার যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আগে জামায়াতের হাত দিয়ে বা শায়খ ইউনুস কিংবা শায়খা সুলতান যাওক্ব অথবা ডঃ আব্দুল বারীর মাধ্যমে চালাতো, তা এক চেটিয়া এদেরকে দেয়া হয়। বিশাল বই ভান্ডার, এমন কি বড় বড় ওয়েব পেইজের সহায়তা এদের জন্য অবারিত হয়ে যায়।

বাংলাদেশে এই কাজে তারা ৪টা সহায়তা পেয়েছে।

১। যেহেতু বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের কয়েকজন বড় বড় নেতা ছিলেন আহলে হাদীসের। যেমন ঢাকার মেয়র মোহাম্মাদ হানিফ এবং উত্তর বংগের বেশ কয়েকজন নেতা। এমন কি শায়খ আব্দুর রহমানের শ্যালকও। ফলে এরা আওয়ামিলীগের ছত্রছায়াকে জামায়াতের বিপরীতে দাঁড়াবার প্লাট ফরম হিসেবে গ্রহন করে। যেহেতু শায়খ আব্দুর রহমান ও ডঃ গালিব কে চার দল শেষ করে বা জেলে পোরে, কাজেই তাদের বিপরীতরা হলো এদের প্রিয় সরকার যাদের বিরোধিতা করা ঈমানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে তারা ফতোয়া দেয়। তারা এখন সরকারের কাছে অত্যন্ত সহনীয় মাত্রার খাঁটি ইসলামি দল।

২। আওয়ামি ঘরাণার ব্যবসায়িক শ্রেনীও এদের প্রিয়পাত্র হেতু তাদের মিডীয়াতে তারা গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিত্ব হয়েছেন। ডঃ যাকির নায়েক যখন পীস টিভির বাংলা ভার্সন শুরু করেন, তার চিন্তা ছিলো উর্দু ও ইংলিশের আদলে এটাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন। এ্টাকে রাখবেন বিভিন্ন মতের লোকদের মিলন মেলা বানায়ে। কিন্তু তিনি এর দ্বায়িত্বে বসান ভারতের আরেক শায়খ আবু আব্দুর রহমান নামে মদীনা বিশেবিদ্যালয়ের আরেক জনকেযিনি ঐ আহলে হাদীসের শুব্বান গ্রুপের শায়খদের বন্ধু ছিলেন। এদেরকেই এই ভারতীয় শায়খ আবু আব্দুর রহমান পীস টিভির প্লাটফর্ম দিয়ে দেন। এবং তাদের রিকমেন্ডেশান পাওয়া শায়খরাই এখানে যেতে পারতেন। এই পীস টিভিতেই সালমান এফ রহমানের মত দাতাগণ শত শত কোটি টাকা দান করে বাংলাদেশের সালাফিয়্যাত প্রসারে সাহায্য করেছেন।

৩। বিগত দশ এগারো বছরে মতিউর রহমান মাদানী সহ একটা সংঘবদ্ধ গ্রুপ জামায়াতে ইসলামীর মর্মমূলে আঘাত করে একে শেষ করার চেষ্টা করেছেন। তারা দুটা বিষয়ে অত্যন্ত সফলতার সাথে পরিস্কার করতেছেন যে, এই জামায়াতে ইসলামি একটা ইসলামি দল নয়, এর গোড়া থেকে শুরু করে সবই খাঁটি ইসলাম থেকে দূরে। কাজেই দল যদি করতেই হয় সহীহ আক্বীদার দলে থাকতে হবে। দুই, যারা জামায়াতের সাথে কাজ করবে তারা আহলুস সুন্নাহ থেকে খারিজ হয়ে কুতুবি, ইখওয়ানি বা খাওয়ারিজ হয়ে গেছে। তাদের এই এক্সট্রীম প্রচারণার বলীর পাঠা হয় বাংলাদেশ জামায়াতের জনশক্তি। যারা এক দিকে সরকার দ্বারা নিষ্পেশিত। অন্য দিক দিয়ে এই সব শায়খদের দ্বারা ফতোয়াক্লিষ্ট। দেশবাসীর কাছে তাদেরকে সন্দেহের বধ্য ভূমিতে এমন ভাবে তারা রেখেছে যে, এদের হত্যা করাও যেন সওয়াবের কাজ বলে মনে করা হচ্ছে। এই নিকৃষ্ট মানসিকতা তৈরিতে তারা ইবনে যিয়াদের চেয়ে মারাত্মক হিসেবে আবির্ভূত।

৪। বাংলাদেশে ইসলামের প্লাটফর্ম গুলো বন্ধ করা্তে তারা ভূমিকা রেখেছে অনেক। ফলে জামায়াতের বেশ কিছু বুদ্ধিজীবি উলামাকে তারা তাদের দলে ভিড়িয়ে তাদের মতবাদকে প্রচারে বেগ তৈরি করেছে মারাত্মক ভাবে। ডঃ মাঞ্জুরে ইলাহী, ডঃ সায়ফুল্লাহ মাদানী, ডঃ আবু বাকার মুহাম্মাদ যাকারিয়া, মুফতি ইব্রাহীম এরা সবাই জামায়াতের নেতৃস্থানীয় ছিলেন। দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতি তে তারা এদেরকে সুযোগ করে দিয়ে তাদের সালিফিয়্যাত প্রচারে দারুণ এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশকে আরেক মিশর বানানোর সৌদি প্লানের সাথে যুক্ত এই আহলে হাদীস ভায়েরা যেভাবে একটা ইসলামি দলকে শেষ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তা ইতিহাসে বিরল। যে সব মাসআলাতে তারা মাওলানা মাওদূদীকে অমুসলিম বলে তা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। মাওদূদীর চিন্তা দর্শনে যে সব ভুল আছে তা একটাও ইসলাম বিরোধী নয়। তার সময়ের উলামায়ে কিরাম যে সব ভুল তার ধরেছেন, তার কোনটাতেই তাকে কাফির বলেননি। তবুও তার ভুল ধরা হয়েছে, আর পৃথিবীতে নবী ও রাসূল আলাইহিমুসসালাম ছাড়া কেও ভুলের উর্ধে নন। এ সবকথা এই গ্রুপরা ভালোভাবেই জানে। জেনেও তারা এক এজেন্ডা নিয়ে সামনে যাচ্ছে, আমার কথা হলো ঐখানেই। শেরে বাংলা বলতেনঃ আমার কোন কথায় যদি হিন্দু দাদারা সন্তোষ হয়, বুঝবা আমি আমার কওমের সাথে গাদ্দারি করছি।

এখন আমি দেখি এই চক্রের কথায় উপকৃত হলো কারা?

লেখক: সাদ আবদী
টিউশনির টাকায় দুই ভাইকে হাফেজ বানিয়েছেন রাজীব

টিউশনির টাকায় দুই ভাইকে হাফেজ বানিয়েছেন রাজীব


ডেস্ক রিপোর্ট: বাবা-মা হারানো রাজীব ছোট দুই ভাই মেহেদি ও হাসানকে নিয়ে সুখের স্বপ্ন দেখতেন। তিতুমীর কলেজে নিজের পড়াশোনা, টিউশনি ও কম্পিউটারে গ্রাফিকস ও টাইপিংসহ বিভিন্ন কাজ করে সংসার চালাতেন। তার কষ্টের টাকায় ছোট দুই ভাই হাফেজ হয়েছে। এখন তারা রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসায় ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণিতে পড়ছে। পড়াশোনা শেষে নিজের চাকরি ও পরবর্তীতে দুই ভাই চাকরি বা ব্যবসা করলে সংসারে সুখ আসবে বলে অনেকের কাছে স্বপ্নের কথা বলতেন।

জীবনের সাথে সংগ্রাম করে এতদূর পথচলা সেই রাজীব দেশবাসীকে কাঁদিয়ে ফিরে গেছেন না ফেরার দেশে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গের সামনে হতবিহ্বল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল ওই দুই কিশোর। কী করবে, কোথায় যাবে—এমন অনিশ্চয়তায় যেন কাঁদতেও ভুলে গেছে তারা। গতকাল সোমবার রাতে না-ফেরার দেশে চলে গেছেন দুই বাসের প্রতিযোগিতায় ডান হাত হারানো বড় ভাই রাজীব হোসেন। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে পাওয়া যায় রাজীবের এই ছোট দুই ভাইকে। আগেই মারা গেছেন মা-বাবা, এবার হারালেন মাথার ওপর একমাত্র ছায়া ভাইকে।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়া মেহেদী হাসান বলল, ‘এখন তো আর ভাইয়া নেই। কী হবে জানি না।’ ছোট দুই ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতেন রাজীব। এত কষ্টের মাঝেও দুই কিশোরের আশা, কেউ হয়তো তাদের দায়িত্ব নেবেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয়বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে গা ঘেঁষে অতিক্রম করে।

এ সময় দুই বাসের প্রবল চাপে গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। এতে তার মাথায়ও প্রচণ্ড আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার পর তাকে প্রথমে শমরিতা হাসপাতালে ও পরে ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) ভোর পৌনে ৪টায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে রাজীব। এরপর ওই দিন সকাল ৮টায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজীব চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
যে কারনে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন এরদোগান?

যে কারনে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন এরদোগান?


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আগাম প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। নির্ধারিত মেয়াদের এক বছরেরও বেশি আগে আগামী ২৪ জুন একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন।

বুধবার আঙ্কারার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে এক বক্তৃতায় এরদোগান বলেন, নির্বাহী প্রেসিডেন্সি এখন দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঠিক করবে নির্বাচন কমিশন, তবে এখনই প্রস্তুতি শুরু হওয়া দরকার।

ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টির(এমএইচপি) ডেভলেত বাহচেলির সাথে বৈঠকের পর এই ঘোষণা দেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। বাহচেলি এরদোগানের সাথে বৈঠকের একদিন আগে আগাম নির্বাচনের দাবি করেছিলেন।

স্বাভাবিক নিয়মে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন ২০১৯ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

গত বছর এক গণভোটের মাধ্যমে সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে প্রেসিডেন্ট পদ্ধতির শাসন ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে তুরস্ক যা পরবর্তী নির্বাচনের পর সেটি কার্যকর হওয়ার কথা।

কিন্তু কেন আগাম এ নির্বাচনের ঘোষণা দিলেন এরদোগান?

তুরস্কের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২৪ জুন ভোট হবে। এই প্রথম নতুন পদ্ধতির অধীনে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছে দেশটিতে। নির্বাচনে জয়লাভ করলে নতুন সংবিধান অনুসারে অতিরিক্ত ক্ষমতা পাবেন এরদোগান।

গত বছরের এপ্রিলে সংবিধান সংশোধনে গণভোট ডাকে তুরস্ক। সামান্য ব্যবধানে জিতে যায় ‘হ্যাঁ’। ফলে সংসদীয় ব্যবস্থা থেকে রাষ্ট্রপতিশাসিত ব্যবস্থায় চলে যায় দেশটি।

সাংবিধানিক এই পরিবর্তনের ফলে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট যেসব ক্ষমতা পাবেন, তা হচ্ছে : ভাইস-প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, সরকারি উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সিনিয়র বিচারক নিয়োগের মতো অধিকার। চাইলে যেকোনো সময় সংসদও ভেঙে দিতে পারবেন প্রেসিডেন্ট, জারি করতে পারবেন যেকোনো নির্বাহী আদেশ ও জরুরি অবস্থা।

আগাম নির্বাচন ঘোষণার সময় তুরস্কের ক্ষমতাসীন দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতা এরদোগান ‘তুরস্কের সংকটপূর্ণ সময়ে নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন একজন প্রেসিডেন্ট দরকার’ বলে জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘যদিও প্রেসিডেন্ট ও সরকার যতটা সম্ভব সঙ্গতি রেখে কাজ করছে, কিন্তু পুরনো রোগ প্রত্যেক পদক্ষেপে আমাদের বাধা দিচ্ছে। সিরিয়া ও অন্যান্য জায়গার পরিস্থিতি নির্বাহী পদ্ধতিকে আরো জরুরি করে তুলেছে।’

গত জানুয়ারির শেষের দিকে তুর্কি বাহিনী ও সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী ফ্রি সিরিয়ান আর্মি (এফএসএ) সিরিয়ার আফরিনে সামরিক অভিযান শুরু করে। সেখান থেকে মার্কিন সমর্থিত ওয়াইপিজি কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সরিয়ে দেয় তারা।

সিরিয়াভিত্তিক কুর্দিস ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টি (পিওয়াইডি) ও এর সশস্ত্র গোষ্ঠী ওয়াইপিজিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেখে তুরস্ক। নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সঙ্গেও এর সম্পর্ক আছে বলে মনে করে দেশটি।

আফরিনে তুরস্কের ওই অভিযানে ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র। তবে কুর্দি গোষ্ঠীকে সমর্থন দেয়ায় আবার ন্যাটো মিত্রদের ওপরও চটেছে তুর্কি প্রশাসন। এরইমধ্যে সিরিয়া যুদ্ধ নিয়ে ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে কাজ শুরু করেছে দেশটি।

গত ১৫ বছর ধরে তুরস্কের ক্ষমতায় আছেন এরদোগান- কখনো প্রধানমন্ত্রী আবার কখনো প্রেসিডেন্ট হিসেবে। তার নেতৃত্বেই দেশটির অর্থনীতি উদীয়মান অবস্থায় পৌঁছেছে। এরদোগান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগের বছর ২০০১ সালে তুরস্কে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৭০ শতাংশ। গত বছর তা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১২ শতাংশে।

তবে অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট- দুই নির্বাচনে জিততে এটা এরদোগান ও বাহজেলি জোটের একটি যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।

তুর্কি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী আহমেদ দভুতগ্লুর প্রাক্তন উপদেষ্টা এতিয়েন মাহজুপায়ান মনে করেন, আগাম নির্বাচনের পেছনে মূল কারণ অর্থনৈতিক সমস্যা ও সিরিয়া যুদ্ধ।

তিনি বলেন, ‘দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার মানে, শক্তিশালী কোনো প্রতিপক্ষকে এরদোগানের বিরুদ্ধে প্রচারণার সময় না দেয়া ও সাধারণ নির্বাচনের জন্য সংগঠিত হতে বিরোধীদের পর্যাপ্ত সময় না দেয়।’

এই রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরো বলেন, ‘এরদোগানের মিত্র এমএইচপি মনে করে ২০১৯ সালে নির্বাচন হলে জয়লাভ কঠিন হতে পারে। তারা একটি সুবিধাজনক সময়ে নির্বাচনে যেতে চায়।’

এতিয়েন মাহজুপায়ানের সঙ্গে একমত পোষণ করেন তুরস্কের আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাহা আয়কল। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী দল লি পার্টির জনপ্রিয়তা বেড়ে গেলে তাতে সমস্যা হতে পারে একে পার্টি ও এমএইচপির বলে মনে করেন তিনি।

আয়কল মনে করেন, তিনটি বড় বিরোধী দল আলাদাভাবে নির্বাচন করবে। তাদের মধ্যে জোট হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এটা একে পার্টি ও এমএইচপির জন্য বড় সুযোগ।

তিনি বলেন, ‘দেশে বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি রয়েছে। তবে মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার এখনো বেশি। অন্য দেশের মতো অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও আগামী নির্বাচনে তুরস্কের জন্য বড় বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। একে পার্টি ও এমএইচপি এর ঝুঁকি নিতে চায় না।’

সূত্র: আল জাজিরা
লন্ডনে উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের ওপর হামলা

লন্ডনে উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের ওপর হামলা


ডেস্ক রিপোর্ট: লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়। গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় বিকেলে ওয়েস্টমিনস্টারের দ্বিতীয় কুইন এলিজাবেথ কনফারেন্স সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সেখানে বিক্ষোভ করছিলেন যুক্তরাজ্য শাখা বিএনপির নেতা-কর্মীরা। ওই বিক্ষোভ থেকে উপমন্ত্রী জয়ের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করেছে।

কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। তাঁর এই সফরের বিরুদ্ধে প্রতিদিন বিক্ষোভ করছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা- কর্মীরা।

গতকাল স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে তিনটা থেকে দ্বিতীয় কুইন এলিজাবেথ কনফারেন্স সেন্টারে সরকারপ্রধানদের বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কনফারেন্স সেন্টারের বাইরে বিক্ষোভ করছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পাশেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন যুক্তরাজ্য শাখা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি বলেন, উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বিএনপির বিক্ষোভের পাশ দিয়ে হেঁটে সম্মেলন স্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপির বিক্ষোভ থেকে তাঁর উদ্দেশে কটু মন্তব্য করা হয়। একপর্যায়ে উপমন্ত্রীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন কয়েকজন। এ সময় আরিফ খান দৌড়ে গিয়ে পাশের বারক্লেস ব্যাংকের সামনে গিয়ে আশ্রয় খোঁজেন। হামলাকারীরাও তাঁর পিছু নেন। পরে বিএনপির কিছু নেতা–কর্মী তাঁকে রক্ষা করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, বারক্লেস ব্যাংকের সামনে উপমন্ত্রীকে ঘিরে রেখে হামলা থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী। তাঁরা হামলাকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে হামলাকারীরা উপমন্ত্রীকে উদ্দেশে কটু মন্তব্য করেন। একজন দূর থেকে তাঁর দিকে পানি ছুড়ে মারেন। এর মধ্যে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক হামলার ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিক্ষোভ করার সময় আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের কাছে আসেন না। তিনি (আরিফ খান জয়) কেন আসলেন, আমরা বুঝলাম না।’

এম এ মালেক বলেন, তাঁরা উপমন্ত্রীকে রক্ষা না করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতো। এ ঘটনায় মারুফ ও বাপ্পি নামে দুজনকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানান তিনি।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে বিএনপি যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে, তার নিন্দা জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তারা আবারও প্রমাণ করল, প্রচলিত রাজনীতির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা কেবলই সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সমস্ত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের গণমানুষের কোনো সম্পর্ক নেই।
সাবেক শিবির নেতা গোলাম মোস্তফাকে জেল গেট থেকে পুনরায় গ্রেফতারের প্রতিবাদ

সাবেক শিবির নেতা গোলাম মোস্তফাকে জেল গেট থেকে পুনরায় গ্রেফতারের প্রতিবাদ


ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার সাবেক সভাপতি মোহাঃ গোলাম মোস্তফাকে গত বুধবার আইনি প্রক্রিয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়ার সময় সাদা পোশাকে থাকা অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উঠিয়ে নিয়ে যায়। এর প্রতিবাদে ও সন্ধানের দাবিতে বুধবার বিকাল সোয়া ৫টায় নিজস্ব বাসভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে পরিবারের সদস্যরা।

সাংবাদিক সম্মেলনে মোস্তফার মা  রেবিনা বেগম তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার বড় ছেলে মোহাঃ  গোলাম মোস্তফা গত ২৪ জানুয়ারি আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তখন থেকে সে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দী ছিল। কিন্তু গত রোববার সন্ধ্যা ৫:৫৩ টায় আইনি প্রক্রিয়ায় সব মামলায় জামিন পেয়ে বের হলে কারাগারের মেইন ফটক থেকে সাদা পোশাকে থাকা অস্ত্রধারী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যারা একটি সাদা রঙ্গের মাইক্রেবাসে করে উঠিয়ে নিয়ে যায়। যার রেজি: নাম্বার ঢাকা মেট্রো-চ ৫১-৬৬৭৯। গতকাল থেকে সে কোথায় আছে? কি অবস্থায় আছে কিছুই জানা যাচ্ছে না। তিনি মোস্তফার জীবনের সার্বিক নিরাপত্তা দাবি করেন।

তিনি আরো বলেন, মোস্তফার কোনো ক্ষতি হলে তার সকল দায়ভার সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই নিতে হবে। তিনি অনতিবিলম্বে ছেলের সন্ধানের দাবি জানিয়ে বলেন- দয়া করে আমার আদরের সন্তানকে আমার বুকে ফিরিয়ে দিন। একজন মায়ের আকুতি পদদলিত করবেন না।
তিনি তার ছেলের সন্ধানের জন্য সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
ভিসির বাড়িতে হামলা চালিয়েছে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ

ভিসির বাড়িতে হামলা চালিয়েছে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ


ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ভবনে ৮ এপ্রিল দিন পেরিয়ে গভীর রাতে যে হামলা হয়, ওই সময় সেখানে বিভিন্ন ধরনের ভূমিকা পালন করেছে আটটি গ্রুপ। এর মধ্যে হামলায় অংশ নেয় দুটি গ্রুপ। আর অন্য ছয়টি গ্রুপ উপাচার্যকে রক্ষাসহ নানান ভূমিকা পালন করে।

প্রিয়.কমের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ওই রাতের হামলার সময়ের চিত্র। ওই সময়ের কিছু অপ্রকাশিত ছবিও পাওয়া গেছে। এসবে মুখে কাপড় বাঁধা কয়েকজন হামলাকারীকে দেখা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলা শুরু হয় রাত ১টা ২০ মিনিট থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে। চলেছে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত।

উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছেন, হামলা শুরু হয় ১টা ২৫ মিনিটে। ফটক ভেঙে বাসভবনের ভেতর প্রবেশ করে ১টা ৩০ মিনিটের দিকে। তখন তার মেয়ে, স্ত্রী, ছেলে সবাই আলাদা হয়ে পড়েন।

তবে এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো হামলার সঙ্গে জড়িত কাউকে সনাক্ত বা গ্রেফতার করতে পারেনি। শুরু থেকেই উপাচার্য বলছেন, হামলাকারীরা বহিরাগত।

হামলায় দুই গ্রুপ:

উপাচার্য ভবনে হামলায় দুটি গ্রুপের সদস্যরা অংশ নেন। এই দুই গ্রুপের মধ্যে একটি ছিল প্রশিক্ষিত ও বহিরাগত। তারা যেভাবে অল্প সময়ের মধ্যে এই তাণ্ডব চালিয়ে পালিয়ে গেছেন–তাতে এমনটাই ধারণা করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রত্যক্ষদর্শী, তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অন্য গ্রুপে যারা ছিল তারা সাধারণ আন্দোলনকারীদের কয়েকজন। তারা অতিউৎসাহী হয়ে সেখানে প্রবেশ করেছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন।

হামলার সময়ে উপাচার্য ভবনের ভেতরে উপস্থিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমরা ওই রাতে ঢাকা মেডিকেলের সামনে থেকে ভাত খেয়ে রাত ১টার দিকে টিএসসির মোড়ে এসে বসেছিলাম। সে সময়ে শাহবাগ এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হচ্ছিল। রাত দেড়টার সময় দেখি ৪/৫ জন ছেলে দৌড়ে ভিসি স্যারের বাসভবনের দিকে যাচ্ছেন। তখন আমিসহ কয়েকজন বিষয়টি জানার জন্য তাদের পেছনে পেছনে ভিসি স্যারের বাসভবনের গেটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি প্রায় ১৫/২০ জন মিলে বাসভবনের মেইন গেট ভাঙার চেষ্টা করছে। তারা রড, বাঁশ, হকিস্টিক ইত্যাদি দিয়ে গেটে আঘাত করছিল। এমন সময়ে ৩/৪টি ছেলে গেটের পাশের দেয়ালের ওপরের কাঁটাতারের নিরাপত্তাবেস্টনী ভেঙে দেয়ালে উঠে গাছ বেয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর সেই প্রবেশকারীরা ভেতর থেকে মেইন গেট খুলে দেয়। আর গেট খোলার সাথে সাথেই ৪০/৫০ জন মিলে প্রবেশ করে ভেতরে। তারা সব জিনিসপত্র ভাঙতে শুরু করে দেয়। এদের মধ্যে প্রায় ৩০ জনই ছিল মুখে কাপড় বাঁধা অবস্থায়। এ সময়ে গেট খোলা পেয়ে কিছু আন্দোলনকারীও ভেতরে ঢুকে যায়।’

‘হামলার দৃশ্য আর সহ্য করতে না পেরে প্রবেশ করি বাসার ভেতরে। নিচতলায় সব কিছু তারা তছনছ করে দিয়েছে। দৌড়ে উঠে যাই ওপরের তলায়, গিয়ে দেখি ভিসি স্যারকে কয়েকজন মিলে চতুর্দিকে ঘিরে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। আর মুখ বাঁধা কয়েকজন হামলাকারী ভিসি স্যারের ওপরে বারবার হামলা চালাতে চাচ্ছেন। আমিও তখন স্যারকে বাঁচাতে যোগ দিলাম। এ সময়ে ভবনের ভেতরে ও বাইরে জিনিসপত্র ভাঙচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন হামলাকারীরা। এমন সময়ে আমি দ্বিতীয় তলা থেকে নিচের হামলাকারীদের ছবি তুলছিলাম। হঠাৎ একজন আমার ফোন কেড়ে নিয়ে যায়। আমি তখন আবারো ঘরের ভেতরে চলে যাই। প্রায় মিনিট ১৫ পরে আমরা ৭/৮ জন মিলে স্যারকে নিচে নামায়ে আনি। এ সময় কিছু হামলাকারীরা পালিয়ে যাচ্ছিল। আর ওই সময়ে বাসভবনে প্রবেশ করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতাসহ ১০/১২জন নেতাকর্মী। তারা ভেতরে প্রবেশ করেই হামলাকারীদের পেটানো শুরু করে, তখন সবাই পালিয়ে যায়। তাদের হাতে একজন হামলাকারী আটক হয়েছিল, তবে সেও পরে পালিয়েছে,’ বলেন প্রত্যক্ষদর্শী ওই শিক্ষার্থী।

ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, “স্যারকে নিচে নিয়ে যাওয়ার মিনিট দশেক পরে সেখানে আসেন জাহাঙ্গীর কবির নানক (আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)। তিনি এসে প্রথমে একটি ফোন করেন। ফোনে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাস এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে আপনি দ্রুত পুলিশ পাঠান’।

জাহাঙ্গীর কবির নানক দ্বিতীয় ফোনটি করেন ফায়ার সার্ভিসে। এরপরে তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগকে ফোন করে বলেন ভিসির বাসায় আসতে। তারও ৫/৭ মিনিট পরে সোহাগ ও জাকির (ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন) ঘটনাস্থলে চলে আসেন।’’

হামলা ঠেকাতে ছয় গ্রুপ:
প্রথম গ্রুপ সংবাদকর্মীদের:

উপাচার্যকে হামলাকারীদের হাত থেকে প্রথমে বাঁচিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরা। সাংবাদিকদের গ্রুপটি রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে ভিসির বাসায় প্রবেশ করেন। তারা ৫/৭ জন বাসভবনে প্রবেশ করে উপাচার্যকে ঘিরে রাখেন। হামলাকারীদের কাছ থেকে বাঁচাতে এক সংবাদকর্মীর সঙ্গে এক হামলাকারীর হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। ছাত্রলীগ নেতারাও স্বীকার করেছেন, উপাচার্যকে রক্ষা করেছিলেন সাংবাদিকরাই।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সেই নেতা প্রিয়.কম-এর কাছে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। উপাচার্যকে রক্ষা করতে ছাত্রলীগের যে দলটি প্রথম বাসভবনে ঢুকেছিল, এই নেতাও ছিলেন তাদের সঙ্গে। তবে তিনি পরিচয় প্রকাশে অপারগতা জানিয়েছেন।

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার-এর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আশিক আব্দুল্লাহ অপু ওই সময় অন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে উপাচার্যকে রক্ষার চেষ্টা করেন। তিনি প্রিয়.কমকে বলেন, ‘হামলাকারীরা যখন গেটে ভাঙচুর করছিল, বাসায় হামলা চালাচ্ছিল, আমরা সেসময় ওখানেই ছিলাম। এরপর আমরা যখন ভিতরে ঢুকলাম রাত দেড়টার দিকে, তখন আমরা গিয়ে দেখি ওখানে আগে থেকেই আমাদের কিছু বড় ভাই সাংবাদিক আছেন ভিসি স্যারে কাছে। স্যারকে বাঁচাতে আমিও এগিয়ে যাই। এ সময় হামলাকারীরা বাসার গেটে, ভেতরে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছিল। সেই মুহূর্তে স্যার নিচে নেমে আসছিলেন। আমরা তখন স্যারকে প্রটেক্ট করছিলাম। স্যার দোতলায় সিঁড়ির ওপরে ছিলেন। ওই সময়ে তারা নিচে থেকে স্যারকে হুমকি দিচ্ছিল, কাম্পাসে পুলিশ কেন? পুলিশ টিয়ার ছুড়ল, গুলি চালাল তখন তিনি (উপাচার্য) কোথায় ছিলেন?

এ সব বলে হুমকি দিচ্ছিল। তখন আমরা স্যারকে বলি, স্যার আপনি উপরে চলেন, এখানে থাকলে হামলার শিকার হতে পারেন। এর পরে স্যারকে আমরা উপরে নিয়ে গিয়ে একটা রুমে বসালাম।’

‘তখন ওদের ১৫/ ২০ জনের এরকটা গ্রুপ উপরে উঠে আসে। অধিকাংশরই মুখ গামছা বা মাস্ক দিয়ে ঢাকা ছিল। নিচে ভাঙচুর চলছিল। সব কিছু ভাঙচুর করতে ওদের খুব বেশি সময় লাগেনি। হয়তো বা সর্বোচ্চ ১৫/২০ মিনিট। এ সময় তারা স্যারকে বারবার একই কথা বলে চার্জ করছিল। আর ওরা সিসিটিভি ফুটেজের সার্ভার খুঁজছিল। একটা সময়ে তারা সেটা পেয়ে যায়। তখন স্যারকে মারতে আসছিল কয়েকজন, আমরা যেভাবে পারি তাদের ঠেকাচ্ছিলাম। এরপর তাদের অনেকে চলে যাচ্ছিল। আমরা তখন স্যারকে একটা বলয় তৈরি কররে নিচে নিয়ে আসি। তখনও হামলাকারীদের কেউ কেউ ছিল। নিচে আনার পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একজন দুজন করে আসতে শুরু করে। এ সময় নানক সাহেব এসে পড়েন। আর নানক আসার পরে ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারিও আসে। তখন প্রধানমন্ত্রী ফোন দেন স্যারকে,’ বলেন অপু।

দ্বিতীয় গ্রুপ ছাত্রলীগ:

উপাচার্যকে রক্ষা করতে যাওয়া দ্বিতীয় গ্রুপটি ছিল ছাত্রলীগের। রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে যান। তারা আসার আগেই ভাঙচুর পর্ব শেষ হয়ে হয়। এই নিয়ে ছাত্রলীগ সংবাদ সম্মেলন করে একাধিকবার ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে।

তৃতীয় গ্রুপ ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ:

উপাচার্যকে বাঁচাতে যাওয়া তৃতীয় গ্রুপটি ছিল ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের। ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী সে সময়ে উপস্থিত হন মেইন গেটের সামনে। তাদের হাতে ছিল রড, হকিস্টিক ও লাঠি। একটি ছবিতে ঢাকা কলেজের টি-শার্ট পড়া একজনকে অস্ত্র হাতে ভিসির বাসভবনের গেট দিয়ে ঢুকতে দেখা গেছে।

ছাত্রলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেছেন, ওই সময় ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের অনেকে ছিল। কারণ তারা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যদি কোথাও কোনো বিপদে পড়েন সেখানে তারা থাকবেই বলে দাবি তার।

মাথায় হেলমেট পরে উপাচার্য ভবনের গেটের দিকে যাচ্ছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের একজন। তার হাতে রডজাতীয় কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। ছবিটি ধরা পড়ে এটিএন বাংলার ক্যামেরায়

চতুর্থ গ্রুপ ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ:

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী এবং ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীদের অনেকেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের দাবিও একই। তারা বলছেন, যেহেতু ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সে সময় ক্যাম্পাসে ছিল, তাই তাদের সঙ্গে মহানগর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে ছিলেন।

পঞ্চম গ্রুপটি জাহাঙ্গীর কবির নানকের:

উপাচার্যকে বাঁচাতে যাওয়া পঞ্চম গ্রুপটি ছিল ঢাকা মহানগরের মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকার বিভিন্ন নেতাকর্মীদের। তারা জাহাঙ্গীর কবির নানকের সঙ্গে ভিসির বাসায় উপস্থিত হয়েছিলেন। রাত ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে সেখানে যান তারা।

ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘আমাদের বাইরে থেকে ভেতরে যেতে বেশ কয়েকজন যুবক বাধা দেয়। তখন তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা জানান যে, তারা আদাবর এলাকার নেতাকর্মী; নানকের সাথে এখানে এসেছেন।’

নানকের ফোন পেয়ে নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ সেখানে রাত ২টার দিকে উপস্থিত হন।

ষষ্ঠ গ্রুপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ:

হামলার সময়ে তারা কাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিসির বাসভবনের গেটে যান। এরপর তারা মূল গেটের সামনে থাকা অনান্যদের সরিয়ে দেন। তখনই তাদের সঙ্গে কিছু শিক্ষার্থীর ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ছাত্রলীগ নেতারা করছেন অভিযোগ:

উপাচার্য ভবনে হামলাকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশকারী কিছু নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠছে। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ও ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করা বেশ কয়েকজন এমন অভিযোগ করেছেন।

ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রিয়.কমকে বলেন, ‘প্রথমে আমি একজন ছাত্র। তাই ছাত্রদের সাথে আন্দোলনে অংশ নিই। কিন্তু ছাত্রলীগ যখন সেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ওপরে হামলা চালাল। আমি তখনই দল থেকে পদত্যাগ করি।’

ভিসির বাসভবনে হামলার রাতের বর্ণনা দিয়ে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘পুলিশের টিয়ারশেলের আঘাতে আমি জ্ঞান হারিয়ে চারুকলার ভেতরে পড়ে ছিলাম। সেখান থেকে আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলার সময় বাইরের কেউ এসে এই হামলা চালিয়েছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কেউই ভিসি স্যারের বাসভবনে হাত দিবে না।’

ছাত্রলীগের রাজনীতি করা এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের ওপরে মহানগর ছাত্রলীগ দিয়ে হামলা চালানো হয়। কাজেই এটা স্পষ্ট যে ভিসি স্যারের ভবনেও মহানগর ছাত্রলীগ হামলা চালিয়েছে। আর তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাদের নির্দেশে ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগও এই হামলায় অংশ নেয়। সেটার অনেক প্রত্যক্ষ সাক্ষী রয়েছে। সেসময়ে ঢাকা কলেজের টি-শার্ট পড়া একজনকে অস্ত্র হাতে ভিসির বাসভবনের গেটে হামলা চালাতে দেখা গেছে।’

নাম না প্রকাশের শর্তে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আরেক সাবেক নেতা একই অভিযোগ করেন।

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘এটা সন্দেহের মধ্যে রাখা যেতে পারে। কিন্তু সুস্পষ্টভাবে তাদের দায়ী করার কোনো এখতিয়ার আমাদের নেই। সন্দেহ হতে পারে দুইটা কারণে, প্রথমত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের মতো একটা জায়গায় রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা হামলা চালিয়ে গেল, কেউ চিনতে পারল না–বিষয়টা অভাবনীয়। এটা না হলে বলতে হবে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কোথাও কোনো অবস্থান নাই। যে কোনো একটা স্বীকার করতে হবে।’

‘ভিসির বাসার গেট ভাঙতে মোটামুটি ১৫ মিনিট সময় লেগেছে। এটা (খবর) দ্রুত পুরো ক্যাম্পাস ছড়িয়ে পড়ার কথা। পুরো হামলা শেষ করতে হামকাকারীরা যথেষ্ট সময় পেয়েছে। এর মধ্যে একজনও কোনো হল থেকে বা অন্য কোথা থেকে এলো না? এটা কী আসলে ভাবার মতো বিষয় না?, প্রশ্ন রাখেন ছাত্রলীগের ওই নেতা।

কোথায় ছিল ছাত্রলীগ?

ভিসির ভবনে হামলা চলাকালে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কোথায় ছিলেন–তা নিয়ে নানা ধরনের রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলেছেন, তারা মল চত্বরে ছিলেন। আবার অনেকে বলছেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে ছিলেন।

প্রশ্ন উঠেছে, মল চত্বর হোক বা ক্যাম্পাস, তা তো খুব কাছেই। তবু কেন ভিসির বাসায় হামলার সময় তারা দ্রুত পৌঁছাতে পারেনি?

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, মাত্র ১০/১২ জন ছাত্রলীগের নেতা প্রথমে ভিসিকে বাঁচাতে ভেতরে যান। ততক্ষণে হামলাকারীদের অনেকে পালিয়েছে। আর ভিসিকেও নিচে নামিয়ে আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা প্রিয়.কমকে বলেন, ‘ভিসি স্যারের বাসায় হামলার সময়ে আমরা কেন্দ্রীয় নেতারা নানক স্যারের সাথে শাহবাগ মোড়ে একটি সংবাদ সম্মেলনে ছিলাম। আমরা আন্দোলনকারীদের বুঝাচ্ছিলাম যে, আবু বকর নামের সেই ছেলেটি মারা যায়নি, বেঁচে আছে। এমন সময়ে আমরা ভিসির বাসায় হামলার খবর পেয়ে ওই দিকে দৌড়ে যাই। এ সময়ে কেউ হয়তো একটু আগে পৌঁছে ছিল কেউবা একটু পরে।’

ছাত্রলীগ উপস্থিত হওয়ার পরে গুলিও চলেছিল

হামলার পরে উপাচার্যকে বাঁচাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাসহ অনেকে ছুটে যান। তখন ঢাকা কলেজ, মহানগর ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে হাজির হন। তারা উপস্থিত হওয়ার পরেই অর্থাৎ রাত ২টা ০৫ মিনিট বা ১০ মিনিটের দিকে শুরু হয় গুলি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, প্রথমে ৭/৮ রাউন্ড গুলি হয়। এর পরেই ব্রাশ ফায়ারের মতো গুলি শুরু হয়। তখনো পুলিশ সেখানে পৌঁছায়নি। কে বা কারা এভাবে গুলি ছুড়েছে তা কেউই দেখেনি, শুধু শব্দ শুনেছেন। গুলির শব্দ বন্ধ হওয়ার পরে পুলিশ চলে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ছাত্রলীগের উপস্থিতিতেই এই গুলি চালানো হয়।

ছবিতে দেখুন কারা হামলাকারী

উপাচার্য ভবনে মূল হামলায় অংশ নেয় ২০ থেকে ৩০ জন। তাদের মুখ কাপড়, গামছা ও মাস্ক দিয়ে ঢাকা ছিল। আর অন্যরা ছিল তাদের সহযোগী।

মুখ বেঁধে হামলায় অংশ নেওয়া কয়েকজনের ও হামলার সময়ের কিছু ছবি রয়েছে প্রিয়.কম-এর হাতে।

প্রথম ছবিতে (সংবাদের লিড ছবি) দেখা যাচ্ছে, ভিসির বাসভবনের দ্বিতীয় তলায় কয়েকজন মিলে জটলা করে দাঁড়িয়ে আছেন। এদের মধ্যে বামে সাদা কালো রংয়ের টি-শার্ট পড়া এক যুবক কোমরে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তার মুখে একটি গামছা বাধা রয়েছে। ঠিক তার পিছনেই লাল ও ছাই রঙের টি-শার্ট পরা আরও দুজন দাঁড়ানো।

আর ছবির ডান পাশে গেবাটিন প্যান্ট পরা, কিন্ত খালি গায়ে দাঁড়িয়ে আছেন এক যুবক। তারও মুখে একটি কাপড় বাঁধা ছিল যেটা খুলে গিয়ে কিছুটা গলার দিকে নেমে এসেছে। ঠিক তার পেছনেই উঁচু কোনো একটি জিনিসের ওপরে দাঁড়িয়ে ছিলেন কালো গেঞ্জি ও জিন্স প্যান্ট পরা আরও এক যুবক।

দ্বিতীয় ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ভিসির বাসভবন থেকে জিনিসপত্র বের করে এনে গেটের পাশে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছেন কয়েকজন। এখানে অনেকের মুখ খোলা থাকলেও থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট ও কমলা রঙের গেঞ্জি পরা একজন গেটে দাঁড়িয়ে আছেন, তবে তার মুখে কালো কাপড় বাঁধা ছিল।

তৃতীয় ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গেট দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন দুজন। এদের একজনের পরনে জিন্স প্যান্ট ও গোল গলার সাদা গেঞ্জি। তার হাতে একটি লাঠি রয়েছে। আর তার ঠিক পিছনেই আবছা ছবিতে একজনকে মুখ বাঁধা অবস্থায় বের হতে দেখা যাচ্ছে।

চতুর্থ ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ভিসির বাসার একটি রুমের সোফা ও টি-টেবিল ভেঙে ফেলা হয়েছে। আর সেই টি-টেবিলের পাশেই পায়ে স্যান্ডেল ও গায়ে গেঞ্জি পরে দাঁড়িয়ে আছে একজন। তার হাতে একটি বাঁশের লাঠি দেখা যাচ্ছে। তবে তার মুখটি দেখা যাচ্ছে না।

‘হামলার সময় তিন ভাগ হয়ে যাই’

হামলার পর থেকেই উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলে আসছেন, হামলাকারীরা বহিরাগত। সেই রাতের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনার শুরুর সময়ে আমার মেয়ে, আমার স্ত্রী, এদের অবস্থা দেখে আমি…। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে... আমার মেয়ে গা-মোছ করে দেয়। আমার স্ত্রী দোয়া পড়ে গায়ে ফুঁ দেয়।’

‘১টা ২৫ মিনিটের দিকে এরা বাসা থেকে নামার জন্য পথঘাট খুঁজতেছে। এরপর আমরা তিনভাগ হয়ে যাই। আমার ছেলে একা একদিকে গেল, আমার স্ত্রী আর মেয়ে একসাথে গেছে, আর আমি আলাদা একা। আর আমি বাড়ির স্টাফদের তাড়াতাড়ি ছেড়ে দেই, ১০টা সাড়ে ১০টার পরে আর রাখি না। তাই অনেকেই চলে যায় সে রাতে। মাত্র দুজন না তিনজন ছিল, তার মধ্যেও সবচেয়ে সিনিয়র লোকটা মার খাইছে, তার মোবাইলটাও নিয়ে গেছে,’ বলেন ভিসি।

ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘অপরাধীদের সনাক্ত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হামলাকারীরা প্রথমেই সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙছে। এর পরেই লাইট নিভে অন্ধকার হয়ে গেল। সাংবাদিক সংগঠনের প্রেসিডেন্ট, সেক্রেটারি সেসময়ে উপস্থিত ছিল, তারা উপস্থিত থাকতেই হামকাকারীর একজন বলতেছিল সিসিটিভি ক্যামেরার সার্ভারটা কোথায়। সুতরাং বোঝা গেল এটা একটা অর্গানাইজড ক্রাইম।’

হামলাকারী কারা হতে পারে? জানতে চাইলে ভিসি বলেন, ‘স্পষ্টই এখানে বিশ্ববিদ্যালের কোনো শিক্ষার্থী নেই। তবে যদি কারো প্রমাণ মেলে সেটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। এই ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকবে এটা আমাদের চিন্তাও আসে না। কোনো নিরপরাধ শিক্ষার্থী যেন হয়রানির শিকার না হয়, সেটা স্পষ্ট বলা আছে। তবে দুর্বৃত্তদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’

'কিরে ভাই এগুলো কী? কেউ কোনো উত্তর দেয় না'

হামলার ঘটনা নিয়ে আন্দোলনকারী নেতা রাশেদ খান প্রিয়.কমকে বলেন, ‘হামলার ঘটনার সময়ে আমরা ছিলাম চারুকলার মধ্যে। সেখানেও পুলিশ যখন টিয়ার গ্যাস ছোড়ে, তখন আমরা তারকাঁটার দেয়াল টপকিয়ে বিজনেস ফ্যাকাল্টির মধ্যে যাই। এর পর ক্যাম্পাস থেকেই দেখি, ভিসির বাসভবনে আগুন জ্বলছে। এটা দেখেই আমরা এগিয়ে যাই, দেখি আগুন কারা জ্বালিয়েছে? সেখানে যখন আমরা ভিতরে যাই দেখি সব জায়গায় চেয়ার টেবিল এনে সব পোড়াচ্ছে। আমরা তখন যারা ছিলাম, আমরা বলি কিরে ভাই এগুলো কী? এগুলো কারা করছে? কেউ কোনো উত্তর দেয় না। এরপর আমরা দাঁড়াইয়া কয়েকজনকে বলি, এগুলো করছেন কেন? আমাদের আন্দোলন তো সহিংস নয়, এমন কোনো নির্দেশনাও নাই। তখন কয়েকজন বলে, আপনারা এখানে থাইকেন না। থাকলে আপনাদেরই মার দেবে। এর পর দেখি অনেক বহিরাগতরা অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরি করছে। তখন আমরা চলে আসি।’

কোনো আন্দোলনকারী ভিসির বাসায় হামলা করতে ভেতরে প্রবেশ করেছিল কি–এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি অবগত নই। কারণ কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে এমন কোনো নির্দেশনা ছিল না। কেউ কেউ দেখতে গিয়েছিল। দু-একজন প্রবেশ করে থাকলেও কেউ ভাঙচুর করতে যায় নাই। তাদের নিষেধ করতে গিয়েছে। যারা হামলা চালিয়েছে এরা সবাই বহিরাগত।’

অন্যদের ভাষ্য

হামলাকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান জানান, এই ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত চলছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগকে পাওয়া যায়নি।

প্রিয়.কমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন