Friday, June 29, 2018

নরসিংদীতে ওসি ও ইউএনও কর্তৃক মসজিদ ও আযান বন্ধের চেষ্টার সত্যতা মিলেছে (ভিডিও সহ)

নরসিংদীতে ওসি ও ইউএনও কর্তৃক মসজিদ ও আযান বন্ধের চেষ্টার সত্যতা মিলেছে (ভিডিও সহ)


স্টাফ রিপোর্টারঃ নরসিংদীর বেলাবো থানার ওসি এবং ইউএনও কর্তৃক দুলালকান্দি গ্রামের একটি মসজিদে নামাজ ও আযান বন্ধে হুমকীর সত্যতা স্বীকার করেছেন এলাকাবাসী মুসুল্লীরা। বেলাবো থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ  ইউএনও উম্মে হাবীবার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী মুসুল্লীরা মসজিদ বন্ধের হুমকীর সত্যতা স্বীকার করেন।

উল্লেখ্য কিছুদিন পূর্বে ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া এক খবরে প্রচারিত হয়, নরসিংদীর বেলাবো থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ এবং ইউএনও উম্মে হাবীবা দুলালকান্দি গ্রামে একটি মসজিদে আযান দিতে বাধা দিচ্ছে এবং মসজিদটি তুলে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিষয়টি ফেসবুকে প্রচার হলে ইউএনও ও ওসি পুরো ঘটনা অস্বীকার করেন। কিন্তু দিগন্তবার্তার২৪ এর কাছে ঘটনার কয়েকটি অডিও এবং ভিডিও এবং ছবি হস্তগত হয়েছে। যেখানে মসজিদ বন্ধে ওসি এবং ইউএনওর হুমকী দেয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন মুসল্লীরা। তারা জানান, মসজিদে নামাজ পড়লে মুসল্লীদের ধরে নেয়ার হুমকি দেয়া হয় পুলিশ প্রশাসন থেকে।

এদিকে, মসজিদে নামাজ ও আজানে বাধা দেয়ার খবর ফেসবুকে শেয়ার করায় নিরীহ দুই এলাকাবাসীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের একজন দুলাল কান্দি গ্রামের বাবুল মিয়া। বাবুল মিয়াকে থানা হাজতে নিয়ে কঠিন নির্যাতন করার অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। এলাকাবাসী আরো জানিয়েছে, ঐ মসজিদের রেজিস্ট্রিকৃত দলিল রয়েছে, কিন্তু তারপরও প্রশাসন ও পুলিশের এ ধরনের পদক্ষেপ বেআইনী। ইসলামবান্ধব আওয়ামী সরকারের আমলে ওসি ও ইউএনওর এ ধরনের ধর্মবিরোধী পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তাদের কঠোর শাস্তি এবং প্রত্যাহার দাবি করেছে এলাকাবাসী।

[নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মুসল্লীর মুখের ছবি ঢেকে দেয়া হলো]

Thursday, May 17, 2018

তিনি এমনই একজন শিক্ষক যার ট্রান্সফারের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষার্থীরা

তিনি এমনই একজন শিক্ষক যার ট্রান্সফারের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষার্থীরা


তিনি এমনই একজন শিক্ষক। যার ট্রান্সফারের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষকদের মনের আকাশে জমে মেঘ, কর্মকর্তা কর্মচারীরা আড়ালে ফেলেন চোখের জল। যেন এক রুপকথার গল্প। শোনার পরে ঘিরে থাকবে একরাশ মুগ্ধতা।
রংপুরের দি মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল অ্যান্ড কলেজের লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ নাজমুর রহমান। যিনি গোটা প্রতিষ্ঠানটি সাজিয়েছেন রুপকথার মতো। যিনি অধ্যক্ষ হয়েও ক্যান্টিনে গিয়ে সিঙ্গারা বিক্রি করতে পারেন, মাঠে নেমে পড়তে পারেন বাচ্চাদের সাথে কানামাছি খেলতে কিংবা অনুষ্ঠানে আয়োজনে র‍্যালিতে রিকশা ভ্যান নিজেই চালিয়ে যেতে পারেন। এমনই একজন অভিভাবকের যখন ট্রান্সফারের সংবাদ আসে স্বাভাবিকভাবেই চোখের জল কেউ ধরে রাখতে পারেন না। তাহলে ছোট ছোট শিশুরা কীভাবে পারবে। বিদায়ের খবর শুনে হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থীরা। অফিস কক্ষে এসে ঘিরে ধরে প্রিয় স্যারকে। কিন্তু উপায় কী? তাহলে কী এতোগুলো মানুষের ভালোবাসা, চোখের জল বৃথা হয়ে যাবে? শেষ পর্যন্ত বৃথা যায়নি। তার আগে আসুন লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ নাজমুর রহমানের আবেগ ঘন ফেসবুক পোস্টটি পড়ি। যেটি তিনি নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন।
তিনি ভালোবাসাকে শিরোনাম করেছেন 'সর্বনাশা ভালবাসার অরুনিমায়...' তিনি লিখেছেন তা হুবহু এমন ,
"এমনটাই তো হওয়ার কথা ছিল।
'জন্মিলে মরিতে হইবে', এটাই তো চিরন্তন সত্য। পুরনো প্রাণের প্রস্থান না হলে কিভাবে নতুনের আগমন ঘটবে। পেশাগত দিকে আমি একজন আর্মি অফিসার, আমার কৈশোর পেরুনো দিনগুলো থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ আর রীতিনীতির মাঝে অতিবাহিত হতে থাকে সময়। এভাবেই একে একে যৌবন, মধ্যবয়স পেরিয়ে বেলাশেষের প্রস্তুতি গ্রহণকালে হঠাৎ পোস্টিং হয়, দি মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল এন্ড কলেজ, রংপুর এর অধ্যক্ষ হিসেবে। পোস্টিং অর্ডার শোনার সাথে সাথে মনটা অনিশ্চয়তায় কেঁপে উঠল। খুবই চিন্তিত হলাম, আমি কেমন করে এই দায়িত্বটা পালন করব। এই পদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোন জ্ঞান-তো আমার নেই। সেদিন আমার স্ত্রী আমার পাশে বসে পরম নির্ভরতার সাথে বলেছিল, পোস্টিংটা স্বাভাবিকভাবেই নাও। যারা তোমাকে পোস্টিং করেছেন নিশ্চয়ই ভাল কিছু চিন্তা করেই করেছেন। ওর কথা শোনার পর মন খারাপের রেশটা কেটে গেল।
সামরিক পেশায়, পেশাগত প্রয়োজনেই আমাদের কিছুটা রুথলেস হতে হয়। এখানে আমাদের শেখানো হয় প্রতিপক্ষের মৃত্যুকে স্বাগত জানাতে। এক বুলেট, এক শত্রু- এই মূলমন্ত্রে নিজেদের শাণিত করতে আমরা ফায়ারিং রেঞ্জে অনবরত গুলি ছুড়ি লক্ষ্যবস্তুর দিকে। কাল্পনিক শত্রুকে নানান আকৃতির বানিয়ে- দাঁড়ানো, বসা, শায়িত ভঙ্গিতে রুপ দিয়ে আমরা ছুড়তে থাকি বুলেট। পরিস্থিতি ও কৌশলের প্রয়োজনে আমরাও পরিবর্তন করি আমাদের অবস্থান- কখনও দাঁড়িয়ে, কখনও বসে, কখনও হাঁটু গেড়ে, কখনও শুয়ে ছুড়তে হয় গুলি। বছরের পর বছর চলে এমন প্রশিক্ষণ। মৃত্যু, আর্তচিৎকার, রক্তক্ষরণ এগুলো সামরিক জীবনের/যুদ্ধক্ষেত্রের নৈমিত্তিক ঘটনা। প্রতিপক্ষকে যত দ্রুত ঘায়েল করা যায়, ততই ত্বরান্বিত হয় কাংখিত বিজয়। এমন সব কাজের জগত থেকে হঠাৎ শিক্ষাঙ্গনে গিয়ে অধ্যক্ষ হিসেবে নতুন কাজ করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।
আমার নতুন দায়িত্বের কথা শুনে আমার কিছু বয়োবৃদ্ধ আত্মীয় বললেন, আর্মি-কি তোমাকে রিটায়ারমেন্টে পাঠিয়ে দিল? আমি হেসে বললাম, না, ওনারা হয়ত আমাকে দিয়ে শত্রু মারার চেয়ে মানুষ গড়ার কাজটা করাতে চাচ্ছেন।
রংপুরে এসে পৌঁছলাম, ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি তারিখে। আমাকে সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষারত সামরিক গাড়ির চালককে বললাম,'আমাকে প্রথমে মিলেনিয়াম স্টারস স্কুলে নিয়ে যাবে।'
চালক বলল- 'স্যার, রাতে তো তেমন কিছুই দেখা যাবেনা।'
আমি মৃদু হেসে বললাম, 'তোমার কথাটা ঠিক, তারপরও আমাকে সেখানে নিয়ে যাও। কারণ, আমি আমার জন্য নির্ধারিত অফিসার্স মেসের কক্ষে ঢোকার আগে, সেই স্থানের মাটিকে স্পর্শ করতে চাই, যেখানে আমার সামনের কয়েকটি দিন জড়িয়ে থাকবে।'
রাত সাড়ে নয়টায় আমরা পৌঁছলাম আমার নতুন ঠিকানা- দি মিলেনিয়াম স্টারস স্কুল ও কলেজের সীমানায়। জানুয়ারি মাসের শীতের রাত। কনকনে শীত। স্কুলের কর্তব্যরত নিরাপত্তা প্রহরী এসে জানতে চাইল পরিচয়। রাতের আঁধারে অস্পষ্ট স্কুল ভবনটির মতো আমিও ওর কাছে কিছুটা অস্পষ্ট থাকতে চাইলাম। বললাম, 'নতুন এসেছি রংপুরে, শুনলাম স্কুলটা ভাল, বাচ্চাদের ভর্তি নিয়ে চিন্তায় আছি, তাই একনজর এই স্কুলটা দেখতে এসেছি।'
নিরাপত্তা প্রহরী বলল- 'দিনের বেলা আসেন, ভাল করে দেখেন, স্যারদের সাথে কথা বলেন, স্যাররা দেখবেন ভর্তি করা যায় কিনা?'
ও তখনো জানেনা, তাঁর সাথে কথোপকথনরত এই লোকটিই সামনের দিনগুলোতে এই স্কুল ও কলেজের সকল কার্যক্রমের সাথে মিশে যাবেন তাদেরই একজন সহকর্মী হয়ে কিছুদিনের জন্য। গাড়ী বারান্দার পিলারটি স্পর্শ করে কাল্পনিক একটা অনুভূতির শিহরণ অনুভব করলামে। কিছুটা এদিক ওদিক উঁকি মেরে দেখলাম, ধীরে ধীরে হাটলাম, তারপর চললাম... অফিসার্স মেসের দিকে।
খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম, খেলার মাঠটি নানান ধরণের নির্মাণ সামগ্রীতে ভরপুর দেখে। শিশুর প্রথম চাহিদাই তো ছুটাছুটির একটু জায়গা...। প্রজাপতির মতো উড়তে পারা... ফড়িং এর লেজ আর পাখনা ধরে টানাটানি করা...ঘাসে আর মাটিতে লুটোপুটি খেয়ে জামা ময়লা করে বাসায় ফিরে মায়ের বকা খাওয়া...। শৈশবে একটুকরো রঙিন দিন পাওয়া ওদের অধিকার...। কারো দয়া নয়।
পরদিন স্কুলে এসে তৎকালীন প্রিন্সিপাল সাঈদ আহমেদ স্যারের সাথে দেখা করলাম। স্যার ও ভিপি ম্যাডাম আন্তরিকতা নিয়ে আলাপ করলেন। যেহেতু স্যার তখনও দায়িত্বে ছিলেন তাই আমি অনানুষ্ঠানিকভাবে স্কুলের বিভিন্ন অংশ ঘুরে ফিরে দেখছিলাম ও ধীরে ধীরে আমার মানসপটে আঁকতে শুরু করেছিলাম কল্পনার আলপনায় কিছু উচ্চাভিলাষী দৃশ্য। পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীরা গড়ে উঠবে মানবিক গুণাবলি নিয়ে। খেলাধুলা করে মজবুত শারীরিক গঠন নিয়ে ওরা তৈরী হবে তেজোদীপ্ত নাগরিক হিসেবে, দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হবে আমাদের সোনামনিরা। ওরা জানবে সমাজে মাথা উঁচু করে বাচঁতে হলে শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবলে হবেনা, ভাবতে হবে আমাদের চারপাশ নিয়ে। মানুষের কষ্টে চুপ করে থাকা যাবেনা। নৈতিকতা আর চারিত্রিক মূল্যবোধের আলোয় উদ্ভাসিত হতে হবে। মা-বাবা সহ অন্য সকলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্ববোধ সম্পন্ন হতে হবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
এগুলো কে করাবে ওদের? আমাকেই করতে হবে। এটাই আমার চ্যলেঞ্জ। প্রথমেই শুরু করি স্কুল গেট/প্রবেশ পথ থেকে, আমার সোনামনিদের সাথে আসসালামু আলাইকুম, গুড মর্নিং, ওয়েলকাম টু ইওর লাভিং স্কুল' বলে।
কারণ- আমি মনে করতাম, এটা শিশুদের স্কুল। ওদের রাজত্ব। ওদের জন্যই আমরা আছি। আমাদের জন্য ওরা না। ওদের আগমনে জেগে উঠে যে ক্যাম্পাস, সেই ক্যম্পাসের বাকী সবাই তো ওদের আগমনের খুশিতে ওদের অভ্যর্থনা জানাবে, নাচবে, সুর করে গাইবে। শিশুরা যখন চলে যায়, পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে নেমে আসে যেন মৃত্যুপুরীর ছায়া।আমার দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। আমি অধীর হয়ে থাকি আর একটি সকালের। ওদের আসার প্রতিক্ষায়। ওদের কলকাকলী যেন এক তীব্র সঞ্জীবণী শক্তি।
শুরু করেছিলাম- একটি শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে পড়াশোনার কার্যক্রম, ক্লিন এন্ড গ্রিন প্রোগ্রাম, একটি খেলার মাঠ পাওয়ার চেষ্টা, একটি সুন্দর লাইব্রেরি-যেখানে অকারণেও যেতে মন চাইবে, কমন রুম, দৃষ্টিনন্দন বাগান, পানির ছুটে চলার শব্দময় ঝরণা, একুয়ারিয়াম, অর্কিড ও ক্যাক্টাস গার্ডেন, এগ্রিকালচার পার্ক তৈরি। প্রতিটি কাজের পেছনে ছিল সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য।
রাতের পর রাত ছুটে গিয়েছি শিক্ষার্থীদের বাড়িতে বাড়িতে। জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে গিয়েছি। বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে গিয়েছি। কর্দমাক্ত পথে স্যন্ডেল খুলে, প্যাণ্ট গুটিয়ে হাজির হয়েছি আমার তারাদের বাসায়। দেরি করলে তো চলবেনা। ওদের সমস্যাগুলো জেনে সমাধানের পথ দেখিয়ে দিতে হবে। কখনও হাতে থাকত মার্কশীট। ফিরতে ফিরতে গভীর রাত হত। আমার স্ত্রী অসুস্থ অবস্থায় কখনও কখনও বলতো- 'ভুলে যেওনা তোমারও একটি পরিবার আছে। আমি চুপিচুপি সৃষ্টিকর্তাকে বলেছি- 'হে প্রভূ, তুমিই সহায়...'
বারবার আমার শিক্ষকদের বলেছি- 'আপনি কত বেশি জানেন, তা, আপনার শিক্ষার্থীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনি তাঁর ব্যাপারে কত বেশি যত্নশীল সেটা। তাই আমাদের সকল কাজেই যেন যত্নটাই মুখ্য হয়।'
দিন গড়িয়ে যেতে থাকে। আমিও ছুটতে থাকি আমার ভালবাসার প্রজাপতি, ফুল-পাখি আর তারাদের সাথে। কখনও টিফিন পিরিয়ডে ক্লাসে বসে ওদের সাথে চুটিয়ে গল্প, ভীড় সামলাতে কখনও ক্যন্টিনে বিক্রি করতে থাকি সিঙ্গারা, ছমুচা, কখনও মাঠে গিয়ে কানামাছি, মাংকি মাংকি খেলা, বাগানের গাছের সাথে পরিচয়, শিশুদের দলবেঁধে রিকশা চড়ানো... সবাই মিলে ফ্লোরে বসে খাতা চেক করা...।
ওদের বিস্ময় ভরা চোখ, পিটপিট করে তাকানো, আর নরম কণ্ঠে উচ্চারিত- 'তুমি থাকলে, আমাদের স্কুলে আসতে ভাল লাগে.....'
কথাগুলো আমাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে দেয়...ওদের ভালোবাসার কাছে আমি হেরে যাই। এই হেরে যাওয়া যে কি মজার.........আর হৃদয়স্পর্শী...তা বোঝাতে পারবোনা। আর এই পথে চলতে গিয়ে আমি অনুভব করি এক ভয়ংকর অদৃশ্য মায়ার জাল আমাকে ঘিরে ফেলছে, আমি চিৎকার করে উঠি...... কিন্তু কানে যেন শুনতে পাই সেই চিৎকার সুর হয়ে বাজছে, আমি হারিয়ে যাই এক স্বপ্নময় ভুবনে।
যে আকাশসম ভালোবাসায় আমাকে আমার ছাত্রছাত্রীরা জড়িয়েছে তা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ ছিল উপরের অংশে বলা গুণাবলী ওদের মধ্যে সৃষ্টি করার প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া ...। আমি এজন্য দায়বদ্ধ ছিলাম......
আমার অফিসে এসে শিশুরা কাঁদতে কাঁদতে বলে গেল আপনি চলে গেলে আমরা স্কুলে আসবনা। আমি বোঝানোর চেষ্টা করলাম, স্কুলে না আসলে তোমরা বড় হতে পারবেনা। সাথে সাথে চিৎকার করে কেঁদে কেঁদে বললো, 'আমরা বড় হবনা। আমাদের বড় হওয়া লাগবেনা...।'
কি করুণ সেই দৃশ্য! আমি অসহায়ের মতো জানালা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবছি, হে প্রভূ, তুমি ভালোবাসাকে কেন এত তীব্র করে সৃষ্টি করেছ?
আজ বিদায়ের ঘণ্টা শুনে আমার শিশুগুলো যখন কাঁদছে, আমি দৃঢ় কণ্ঠে ওদের বোঝানোর চেষ্টা করছি পুরানোর প্রস্থান আর নতুনের আগমনই জগতের নিয়ম। এটাই মানতে হবে।
কিন্তু আমার হৃদয়? সেখানে এক প্রলয়ংকরী ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সমুদ্রের উপরের পৃষ্টে শান্ত স্রোতের আড়ালে গভীরে সৃষ্ট ভুমিকম্প বা সুনামি অনেক পর্যটকের কাছে দৃশ্যমাণ হয়ত হয়না। কিন্তু আমি কি আমার নিজের কাছে সেই সত্য কে আড়াল করতে পারি। হয়ত একেই বলে সর্বনাশা ভালোবাসা।"
লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ নাজমুর রহমানের বিদায়ের খবরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও হইচই পড়ে যায়। বিশেষ করে অভিভাবক মহলে অমানিশার অন্ধকার জমা হয়। শিশুদের কান্নার ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ে। এরপর গতকাল সোমবার তাঁর বদলির আদেশ স্থগিত করা হয়। সেনাবাহিনী হেডকোয়ার্টার থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ নাজমুর রহমানের বদলি আদেশ স্থগিত করে।
এই ঘটনার পর সকল মহলেই আনন্দের ফল্গুধারা বয়ে যায়। একজন অফিস সহকারী ফেসবুক হ্যান্ডেলে লিখেছেন, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানিতে, ছোট্ট সোনামণিদের চোখের পানি, সবার দোয়া বৃথা যায়নি। স্যার এর বদলি বাতিল হয়েছে। এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে স্যার এর প্রিয় মুখখানা আবার প্রতিদিন দেখতে পাব। আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন। আমিন।
একজন অভিভাবক নিজের ফেসবুকে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, পড়াশোনা শেষ করেছি অনেক আগেই, অধ্যক্ষ মানেই ভয়ের জায়গা সে ধারণা এসময় এসে যে ভেঙে দিল আমার মেয়েদের প্রাণপ্রিয় অধ্যক্ষ নাজমুর স্যার। তার পরিবারের সাথে কিছু স্মৃতি বিজড়িত সময় অতিবাহিত করলাম, স্যার আপনি যেখানেই থাকবেন সকলের মাঝে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখবেন, এই দোয়া করি।
আজিজুল হক নামের একজন লিখেছেন, সত্যি আপনি সুপার পাওয়ার ছাড়া সুপারম্যান। আপনার সাথে সবস্ময় সৃষ্টিকর্তার দোয়া থাকবে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে আমার সুপারম্যানের মতো একজন ভাই রয়েছে।
প্রিয় শিক্ষকের বদলি বন্ধ হওয়ায় পুরো রংপুর যেন গতকাল আনন্দে ভেসেছে।


Sunday, May 6, 2018

মোবাইলে টাইপ করেই লিখে ফেলেছেন চার শ পৃষ্ঠার আলোচিত এক বই

মোবাইলে টাইপ করেই লিখে ফেলেছেন চার শ পৃষ্ঠার আলোচিত এক বই



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স-এর ছাত্র প্রিন্স মুহাম্মাদ সজল মোবাইলে টাইপ করেই লিখে ফেলেছেন চার শ বত্রিশ পৃষ্ঠার এক চমৎকার বই, নাম সানজাক ই উসমানঃ অটোমানদের দুনিয়ায়।
ইতিমধ্যেই বইটি অনলাইনে ও পাঠকসমাজে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের মুখে মুখে এখন সানজাক ই উসমানের নাম। বইটি প্রকাশ করেছে গার্ডিয়ান পাবলিকেশন্স।
সানজাক ই উসমান বইটি মূলত উসমানী সালতানাত তথা অটোমান সাম্রাজ্য নিয়ে লেখা হলেও এই বই শুরু হয়েছে ইতিহাসকুখ্যাত মোঙ্গল সাম্রাজ্যের উত্থান নিয়ে। বইয়ের ভাষাতেই বলা যাকঃ
‘আপনি কয়জন সিরিয়াল কিলারকে চেনেন? জগতের ইতিহাসে ভয়ংকরতম খুনীর সাথে কি আপনার দেখা হয়েছে? বইয়ের নাম 'সানজাক ই উসমানঃ অটোমানদের দুনিয়ায়'। এই বইটি আপনাকে তার সাথে দেখা করিয়ে দিতে চলেছে। তাকে দেখতে হলে আমাদের উঁকি দিতে হবে আট শ বছর আগের পৃথিবীতে।

ত্রয়োদশ শতাব্দির শুরুতেই মঙ্গোলিয়ান স্তেপ থেকে যেন স্বয়ং আজরাঈল হয়ে নেমে এলেন চেঙ্গিজ খান এবং তার মোঙ্গল বাহিনী। মাত্র কুড়ি বছরের ভেতর যেন নরকে পরিণত হলো সারা পৃথিবী। প্রথমে চীন তারপর তুর্কিস্থান, খোরাসান হয়ে মোঙ্গল ঝড় ধেয়ে এল ককেশাস, আনাতোলিয়া দিয়ে রাশিয়া আর হিন্দুস্থানের দিকে। মরে সাফ হয়ে গেল কোটি কোটি মানুষ। মোঙ্গলদের হাত থেকে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে ইরান-তুর্কিস্থান থেকে আনাতোলিয়ার দিকে রওনা দিল কিছু মানুষ।
তারপর কী হলো? কী করে তারা গড়ে তুলল বিশাল এক সালতানাত? মোঙ্গলদের হাত থেকে কারা বাঁচালো মক্কা-মদীনাকে?’
প্রিন্স মুহাম্মাদ সজল বলেন, এটা কোনো নিয়মিত ইতিহাসের বই বা কোনো ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এটা একই সাথে ইতিহাস, ফিকশন আর থ্রিলার। আজকের পৃথিবী কী করে নির্মাণ হলো, তা জানতে এই বই আপনাকে দারুণ সহযোগিতা করবে।
সানজাক ই উসমান প্রকাশিত হয় গত ১৯শে এপ্রিল, এরপর সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাত্র ১১ দিনের মাথায় শেষ হয়ে যায় প্রথম সংস্করনে বাজারে আনা এক হাজার কপি।চার শ বত্রিশ পৃষ্ঠার একটা ইতিহাসের বই কিভাবে এত দ্রুত শেষ হল তাতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বইটির প্রকাশকও।
বইটি দেখছেন পীর সাহেব চরমোনাই ফয়জুল করিম

বইটি নিয়ে বাংলাদেশ ইতিহাস পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান খান মন্তব্য করেছেনঃ এটি কোনো সাধারণ ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ নয়। তাই ইতিহাস বোদ্ধারা এতে ইতিহাসের প্রণালি সিদ্ধ রচনা পদ্ধতির আলোকে বিষয়বস্তু অনুসন্ধান করলে হতাশ হবেন। তবে সাধারণ পাঠকসহ ইতিহাসের পাঠক ও গবেষকের জন্য এ বইটি গুরুত্ব কম হবেনা। কারণ, ইতিহাসের জ্ঞাত এবং বিশেষ করে অন্তরালে চাপা পড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীকে পাদপ্রদীপের আলোয় আনার চেষ্টা রয়েছে বইটিতে। ইতিহাসের ছাত্রবা গবেষক না হয়েও ইতিহাসের প্রতি অনুরাগ থেকে লেখক আলোচ্য গ্রন্থটি রচনার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমি তাঁর এ দুঃসাহসী আন্তরিক প্রয়াসকে স্বাগত জানাই। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী, তরুণ লেখকের ব্যতিক্রমী রচনাটি ইতিহাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, ইতিহাস অনুরাগী ও সাধারণ পাঠকদের কাছে সমাদৃত হবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে বইটির দ্বিতীয় সংস্করণ বাজারে আসছে আগামী ৭ই মে। 

Saturday, May 5, 2018

আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ভারত!

আওয়ামী লীগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ভারত!


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল গত মাসের শেষের দিকে ভারত থেকে আসার পরই অ্যানালাইসিস বিডির একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, তাদের ভারত সফর সফল হয়নি। আগামী নির্বাচনকে সামনে যে প্রত্যাশা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা ভারত সফরে গিয়েছিল সে উদ্দেশ্য হাসিল হয়নি। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র সভাপতি অমিত শাহ দেখা না করায় হতাশ হয়েই ভারত থেকে ফিরেছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

এখন দিন যত যাচ্ছে ভারতের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু লক্ষণও দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় খাত হলো শেয়ারবাজার। আইন অনুযায়ী কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মোট শেয়ারের ২৫ শতাংশ বিক্রি করতে হয়। চলতি বছর ডিএসইসি’র পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের পর ভারত-চীন এতে অংশ নেয়।

জানা গেছে, শেয়ারবাজারের উচ্চপর্যায়ের কিছু ব্যক্তি ভারতের কাছে শেয়ার বিক্রির তদবির করেন। কিন্তু, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সবুজ সংকেত পাননি। আওয়ামী লীগ নেতাদের ভারত সফরের আগে কোনো পক্ষের কাছেই শেয়ার বিক্রির অনুমোদন দেয়নি সরকার। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতারা সাক্ষাৎ করতে না পেরে ক্ষুব্ধ হয়ে এখন বিভিন্ন কাজে চিনকে বেছে নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে শেয়ারবাজারের ২৫ শতাংশ শেয়ার বন্ধুদেশ ভারতকে বাদ দিয়ে চিনের কাছে বিক্রি করা হয়।

তারপর গত মাসের ২৮ তারিখে পদ্মসেতুর রেল লাইন তৈরি নিয়ে চিনের সঙ্গে বড় একটি চুক্তি করেছে সরকার। এখন বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ভারতকে বাদ দিয়ে চিনকেই বেশি কাছে টানছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুসন্ধানে আরেকটি তথ্য জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জেলা নেয়ার পেছনে সরকারের যে উদ্দেশ্য ছিল তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। শেখ হাসিনার প্রধান টার্গেট ছিল বিএনপিকে ভেঙ্গে দুই টুকরো করা। কিন্তু সেটা হয়নি। তারপর প্রধানমন্ত্রীর ধারণা ছিল, খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপি জামায়াত মাঠে নামবে। কিন্তু সেটাও হলো না। শেখ হাসিনার সর্বশেষ টার্গেট ছিল খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া। কিন্তু, সেটাও এখন পর্যন্ত সম্ভব হচ্ছে না।

সরকারের একটি সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করছেন, বিএনপি এখন ভারতের পরামর্শে চলছে। ভারতই পরিকল্পিতভাবে বিএনপিকে সংগঠিত করে রাখছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপিকে কোনো সহিংস আন্দোলনে নামতে দিচ্ছে না ভারতই। এসব কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের ওপর এখন প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।

এছাড়া আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো- ভারতকে বাদ দিয়ে সরকার এখন অতিমাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে। গত সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাটের বাসায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে সিনিয়র কয়েকজন নেতা বৈঠক করেছেন। অথচ বিগত ১০ বছরের মধ্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসায় আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বৈঠক করার কোনো নজির নেই। তারপর বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে রোহিঙ্গ ইস্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করলেও ধারণা করা হচ্ছে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আরও কিছু বিষয় থাকতে পারে।

এদিকে ভারত মনে করছে, বাংলাদেশের কাছে আমেরিকার দীর্ঘদিনের চাওয়া সেন্টমার্টিনে একটি ঘাটি করা। শেখ হাসিনা হয়তো এবার তা দিয়েও দিতে পারে। আর বাংলাদেশ যদি এমন কিছু করে তাহলে সেটা হবে ভারতের জন্য ভয়াবহ বিপদ। তখন এ অঞ্চলে ভারতের আধিপত্য কমে যাবে।

এসব মিলিয়ে এখন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই টানাপোড়েনে চলছে। শেখ হানিার সরকার থেকে ভারত এক প্রকার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেই বলা যায়।
রোজা রেখে ফাইনালে রিয়ালের বিপক্ষে খেলবেন সালাহ-মানে

রোজা রেখে ফাইনালে রিয়ালের বিপক্ষে খেলবেন সালাহ-মানে


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রোমার বিপক্ষে ৭-৬ গোলের অগ্রগামিতায় চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে স্থান করে নিয়েছে লিভারপুল। আগামী ২৬ মে ইউক্রেনের কিয়েভে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে দলটি।

তা অনুযায়ী পবিত্র রমজান মাসের মাঝপথে হবে ফাইনালি লড়াই। যাতে রোজা রেখে খেলবেন অলরেডসদের তিন সপুারস্টার মোহাম্মদ সালাহ, সাদিও মানে ও এমরি ক্যান।

আগামী ১৫ মে শুরু হবে রমজান। বিশ্বের তাবৎ মুসলিমদের কাছে মাসটি বরাবরই আলাদা গুরুত্ব ও তাৎপর্য বহন করে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটবে না নিশ্চয়ই। ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য লাভে মত্ত থাকেন তারা।

লিভারপুলে রয়েছেন তিনজন মুসলিম-সালাহ, মানে ও এমরি। এ ত্রয়ী নিবেদিত মুসলিম। মাঝেমধ্যেই সেজদা প্রদানের মাধ্যমে গোল উদযাপন করেন তারা। মর্যাদার লিগের ফাইনালে রোজা রেখেই খেলবেন তিন এ গোলস্কোরার।

রিয়ালেও রয়েছেন একজন মুসলিম-আছরাফ হাকিমি। ওই দিন রোজা রাখতে পারেন তিনিও।

দোর্দণ্ড প্রতাপে ফাইনালে উঠেছে রিয়াল। সেখানে শেষ ম্যাচে স্বরূপে দেখা না গেলেও পুরো টুর্নামেন্টে ছন্দময় ফুটবল খেলেছে লিভারপুল। অবশ্য শিরোপার লড়াইয়ে পরিষ্কার ফেভারিট লস ব্লাঙ্কোজরা। তবে চূড়ান্ত লড়াইয়ে তাদের হারাতে পারবে অলরেডসরা বলে মনে করেন ইংলিশ দলটির অন্যতম গোলমেশিন মানে।

এখন পর্যন্ত রেকর্ড ১২বার ইউরোপ সেরা টুর্নামেন্টের টাইটেল জিতেছে রিয়াল। আর ৫বার তা শোকেসে ভরেছে লিভারপুল। এবার তা কে জেতে এখন তা-ই দেখার।
নিহত কনক চাকমার শেষ স্ট্যাটাস, ‘খেলাটা এখানেই শেষ নয়’

নিহত কনক চাকমার শেষ স্ট্যাটাস, ‘খেলাটা এখানেই শেষ নয়’


দিগন্তবার্তা ডেস্ক: গুলিতে নিহত রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেএসএস এমএন লার্মা গ্রুপের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্যে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত হয়েছেন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা কনক চাকমা (৩৮)।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক পাতায় শেষ স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা কনক চাকমা।

স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছিলেন, ‘খেলাটা এখানেই শেষ নয় বরং হয়তো তীব্রতরভাবেই শুরু, খালি ঘরে নাম পূরণের খেলা’'

তার এ স্ট্যাটাসের নিচে কমেন্টস করেছেন অনেকেই। এর মধ্যে স্বপন চাকমা নামে একজন গালাগাল দিয়ে রীতিমতো কনক চাকমাকে স্ট্যাটাসটির জন্য তাকে হুমকি দিয়ে লিখেছেন, খালিঘর পূরণ করার ইচ্ছা যদি থাকে তাহলে তবলছড়ির কনক নামের ছেলিটির খালিঘর পূরণ করা হবে। সাবধান! এমন পোস্ট কতটা ভয়ংকর হবে তা কেউ যানে না।

উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে নানিয়ারচরের বেতছড়ি এলাকায় শক্তিমান চাকমার শেষকৃত্যে যাওয়ার পথে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে নিহত হন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) প্রধান তপন জ্যোতি চাকমা ও কেন্দ্রীয় নেতা কনক চাকমাসহ পাঁচজন।

নিহত অন্য তিনজন হলেন মহালছড়ির সেতু লাল চাকমা (৪০), সুজন চাকমা (৩০) ও খাগড়াছড়ির পানছড়ির মাইক্রোবাসচালক বাঙালি সজীব (৩৪)।

এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। এর মধ্যে দিগন্ত চাকমা (৩০), অর্চিন চাকমা (২৮), অর্জুন চাকমা (৩০) ও মিহির চাকমার (২৮) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া জীবন্ত চাকমা (৩০), শান্তিরঞ্জন চাকমা (৩৪) ও প্রীতি কুমার চাকমা (৩৮) খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Friday, May 4, 2018

ভারতে মাদ্রাসার ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের দায়ে শিক্ষক আটক

ভারতে মাদ্রাসার ছাত্রদের যৌন নির্যাতনের দায়ে শিক্ষক আটক


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের হায়দ্রাবাদের মাদ্রাসার আরবি শিক্ষক রিহানকে ৬ ছাত্রের উপর যৌন নির্যাতনের দায়ে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিগত অনেকগুলো মাস ধরে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিল তারা। ছাত্রদের সবার বয়স ছিল ১০ থেকে ১২ বছরের মধ্যে।

সহকারী পুলিশ কমিশনার আশোক চক্রবর্তী সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ই-িয়া কে বলেন, ২৯ এপ্রিল এক অভিভাবকের দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রিহানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

রিহানের বিরুদ্ধে আইপিসি সেকশন ৩৭৭ এর অধীনে একটি মামলা করা হয়েছে। এছাড়া যৌন অপরাধ থেকে শিশু সুরক্ষা বিধান আইনে নিবন্ধিত হয়েছে মামলাটি। আদালতের রায়ে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে রিহানকে। এনডিটিভি